দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। একইসঙ্গে দক্ষ ও আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ার কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র ব্যবস্থার আওতায় আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের প্রতি কোরিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনেও দেশটির অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কোর্সে কোরীয় সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ উদ্যোগে প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা বাড়াতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।
দুই বৈঠকেই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
যে আই